বই ও ইবুকের কভার ডিজাইন — ফোনের ছোট থাম্বনেইলেও পড়া যায়, ছাপার জন্য প্রেস-রেডি ফাইল

এই সার্ভিস সম্পর্কে
বই বা ইবুকের কভার ডিজাইন করে দিই — ফোনের ছোট থাম্বনেইলেও শিরোনাম পড়া যায়, বাংলা যুক্তাক্ষর ভাঙে না; ছাপা বই হলে সামনে-স্পাইন-পেছন মিলিয়ে প্রেসে দেওয়ার ফাইল। অনলাইনে বই প্রথমে দেখা হয় বুড়ো আঙুলের সমান একটা ছবিতে — ফেসবুক পোস্টে, বইয়ের দোকানের তালিকায়, সার্চে। সেই ছোট মাপে শিরোনাম পড়া না গেলে পাঠক থামে না, পরের বইয়ে চলে যায়। অথচ বেশিরভাগ কভার বানানো হয় বড় স্ক্রিনে, ছোট করে একবারও না দেখে। বাংলা বইয়ে ঝামেলা আরও দুটো। ইংরেজি টেমপ্লেট বা AI-র ছবির ভেতরে বাংলা বসালে যুক্তাক্ষর ভেঙে যায়, কার-চিহ্ন সরে যায়। আর ছাপার দিন প্রেস জানায় স্পাইনের মাপ মেলেনি, ব্লিড নেই। ◆ কী করে দিই বইয়ের বিষয়, পাঠক আর ধারা বুঝে কভারের কনসেপ্ট বানাই। ছবি বা ইলাস্ট্রেশন তৈরি হয় AI টুলে, বই-১ এর অধ্যায় ১২-তে যে আট উপাদানের ইমেজ-ব্রিফ লিখেছি সেটা ধরে — লেখা বসানোর ফাঁকা জায়গাসহ। তারপর শিরোনাম, সাবটাইটেল আর লেখকের নাম আলাদা করে ঠিক বাংলা ফন্টে বসাই, আর প্রতিটা কনসেপ্ট ফোনের থাম্বনেইল মাপে ছোট করে দেখি শিরোনাম পড়া যায় কি না। Learning Bangladesh-এর ২৩টা ইবুক বের হয়েছে, বিক্রি হয় shehzin.com-এ; আর “eBook Business with AI” কোর্সে ইবুকের কভার বানানো হাতে-কলমে শেখাই। এই গিগে সেই কাজটাই আপনার বইয়ের জন্য করে দিই। ◆ তিনটা প্যাকেজ ইবুক — অনলাইনে বিক্রির জন্য সামনের কভার, একটা কনসেপ্ট, দুই দিনে। প্রিন্ট — দুটো কনসেপ্ট, সামনে, স্পাইন আর পেছন মিলিয়ে প্রেস-রেডি PDF, পৃষ্ঠাসংখ্যা ধরে স্পাইনের মাপ, সাথে ইবুক সংস্করণ। লঞ্চ-কিট — তিনটা কনসেপ্ট আর প্রিন্টের সব কিছু, সাথে 3D বই ও ফোন-স্ক্রিনের মকআপ এবং ফেসবুক কভার, পোস্ট ও স্টোরির মাপে কভার-ব্যানার, যাতে প্রকাশের দিন ঘোষণার ছবি হাতে থাকে। ◆ কাদের জন্য নিজের বই নিজে প্রকাশ করছেন এমন লেখক; কোচ, শিক্ষক বা কনসালট্যান্ট যিনি ইবুক বানাচ্ছেন; ছোট প্রকাশনী যাদের প্রতি মাসে কয়েকটা কভার লাগে; আর যিনি প্রথমবার কবিতা, গল্প বা স্মৃতিকথার বই ছাপাচ্ছেন। বই এখনো লেখা বাকি থাকলে আগে “অটোবায়োগ্রাফি ও ইবুক লেখা” গিগটা দেখুন; লঞ্চের আলাদা পোস্টার লাগলে “ফেইসবুক পোস্টার ডিজাইন”। ◆ যা সৎভাবে বলে রাখা দরকার কভার পাঠককে থামায়, বই বিক্রি করে দেয় না — বিক্রি নির্ভর করে বিষয়, দাম আর প্রচারের ওপর, তাই বিক্রির কোনো নিশ্চয়তা দিই না। জনপ্রিয় কোনো বইয়ের কভার হুবহু নকল, কোনো শিল্পীর নাম ধরে তাঁর স্টাইল, বা অনুমতি ছাড়া কারও মুখ — এগুলো করি না। পেছনের কভারে প্রশংসা-বাক্য বা বিক্রির দাবি যায় কেবল সেটা সত্যি হলে। কোন অংশ AI-তে বানানো, তার নোট ডেলিভারির সাথে থাকে। ছাপার রং স্ক্রিনের মতো হুবহু আসে না, প্রেস আর কাগজ ভেদে বদলায় — বেশি কপি ছাপার আগে একটা প্রুফ কপি দেখে নিন। পেইড ফন্ট, স্টক ছবি, ISBN বা ছাপার খরচ লাগলে সেটা আপনার নিজের নামে। ◆ কীভাবে এগোবে অর্ডারের পর শিরোনাম, লেখকের নাম, বইটা কী নিয়ে আর কারা পড়বে লিখে পাঠান, সাথে ভালো লাগে এমন দু-তিনটা কভারের উদাহরণ; ছাপা হলে পৃষ্ঠাসংখ্যা, মাপ আর প্রেসের নাম। আগে কনসেপ্ট দেখাই, আপনি একটা বেছে নিলে তবেই ফাইনাল ফাইল আর বাকি মাপ বানানো হয় — যাতে ভুল দিকে পুরো কাজ না গড়ায়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
অর্ডারের সময় আমাকে কী কী দিতে হবে?
শিরোনাম, সাবটাইটেল আর লেখকের নাম — ঠিক যে বানানে কভারে যাবে, টাইপ করে; ছবি বা স্ক্রিনশট থেকে নয়। বইটা কী নিয়ে আর কারা পড়বে, দু-তিন লাইনে। ভালো লাগে এমন দু-তিনটা কভারের উদাহরণ, যেকোনো বইয়ের, আর যে ধরনটা একদম চান না সেটাও। ছাপা বই হলে পৃষ্ঠাসংখ্যা, বইয়ের মাপ, কাগজের ধরন আর প্রেসের নাম বা তাদের টেমপ্লেট; পেছনের কভারের জন্য ব্লার্ব, লেখক-পরিচিতি, লেখকের ছবি আর ISBN থাকলে সেটা।
কত সময় লাগে?
ইবুক কভার ২ দিনে, প্রিন্ট ৩ দিনে, লঞ্চ-কিট ৫ দিনে। সময় গোনা শুরু হয় ওপরের তথ্যগুলো হাতে পাওয়ার পর থেকে, অর্ডারের মুহূর্ত থেকে নয়। মাঝপথে কনসেপ্ট দেখাই, আপনার উত্তর যত দ্রুত আসে কাজও তত দ্রুত এগোয়। ছাপা বইয়ে পৃষ্ঠাসংখ্যা চূড়ান্ত না হলে স্পাইনের মাপ ঠিক করা যায় না, তাই সেটা শেষে বদলালে ফাইলও আবার বানাতে হয়। বইমেলা বা প্রেসের নির্দিষ্ট তারিখ থাকলে অর্ডারের সময় দ্রুত ডেলিভারি অপশনটা নিন।
রিভিশনে কী কী পড়ে?
বেছে নেওয়া কনসেপ্টের ভেতরে যেকোনো বদল একটা রিভিশন — রং, ফন্ট, লেখার আকার বা জায়গা, ছবির কোনো উপাদান সরানো বা যোগ করা, পেছনের কভারের লেখা এদিক-ওদিক। আমাদের দিক থেকে বানান বা মাপের ভুল হলে সেটা ঠিক করা রিভিশনে গোনা হয় না। কিন্তু পুরো কনসেপ্ট বাদ দিয়ে একেবারে নতুন দিকে যেতে চাইলে সেটা নতুন কনসেপ্ট, অ্যাড-অন থেকে নিতে হয়। ডেলিভারির পর শিরোনাম বদলালে বা পৃষ্ঠাসংখ্যা বদলে স্পাইন নতুন করে হিসাব করতে হলে সেটা একটা রিভিশন ধরা হয়।
আমাদের ফি-র বাইরে কি কোনো খরচ আছে?
AI টুল আর ডিজাইন সফটওয়্যার আমাদের নিজেদের অ্যাকাউন্টে চলে, সেগুলোর খরচ ফি-র ভেতরেই। কভারে এমন বাংলা ও ইংরেজি ফন্ট ব্যবহার করি যেগুলো বাণিজ্যিক কাজে বিনা খরচে ব্যবহার করা যায়। আপনি কোনো নির্দিষ্ট পেইড ফন্ট বা স্টক ছবি চাইলে তার লাইসেন্স আপনার নিজের নামে কিনতে হবে — এটা ইচ্ছাকৃত, যাতে কাল আমাদের সাথে কাজ না করলেও বইটা ছাপার অধিকার আপনার হাতেই থাকে। ISBN, ছাপার খরচ আর অনলাইন দোকানের ফি-ও আপনার নিজের।
কাদের এটা না নেওয়াই ভালো?
যাঁদের বইয়ের শিরোনামই এখনো ঠিক হয়নি — শিরোনাম বদলালে কভারের পুরো ভারসাম্য বদলায়, আগে সেটা ঠিক করুন; বই লেখাই বাকি থাকলে “অটোবায়োগ্রাফি ও ইবুক লেখা” গিগটা আগে। যাঁরা কোনো জনপ্রিয় বইয়ের কভার হুবহু চান, বা নির্দিষ্ট কোনো শিল্পীর আঁকার মতোই চান — এগুলো আমরা করি না। যাঁদের প্রকাশনী নিজেই কভার করে দেয়। আর যাঁরা ভাবছেন শুধু কভার বদলালেই পড়ে থাকা বই বিক্রি হতে শুরু করবে — কভার পাঠককে থামায়, বাকিটা বিষয়, দাম আর প্রচারের কাজ।
AI দিয়ে বানানো কভার — কপিরাইট বা দোকানের নিয়মে ঝামেলা হবে না তো?
কোনো শিল্পীর নাম ধরে তাঁর স্টাইল নকল করি না, অন্য বইয়ের কভার, সিনেমার চরিত্র বা কোনো ব্র্যান্ডের লোগো ব্যবহার করি না, আর যে টুলে কাজ করি তার বাণিজ্যিক ব্যবহারের শর্ত মেনে চলি। কোন অংশ AI-তে বানানো, তার নোট ডেলিভারির সাথে দিই — কিছু অনলাইন দোকান, যেমন Amazon KDP, প্রকাশের সময় জানতে চায় AI-তে বানানো কনটেন্ট আছে কি না, তখন সঠিক উত্তর দিতে পারবেন। তবে AI-তে বানানো ছবির কপিরাইট নিয়ে আইন দেশে দেশে এখনো পরিষ্কার নয়, তাই এ নিয়ে আইনি নিশ্চয়তা দেওয়া সৎ হবে না।
কভারে কারও ছবি বা প্রশংসা-বাক্য দেওয়া যাবে?
লেখকের নিজের ছবি পেছনের কভারে বা ফ্ল্যাপে দেওয়া যায়, রিটাচও করে দিই। অন্য কোনো চেনা মানুষের ছবি, বা AI দিয়ে তাঁর মতো চেহারা বানাতে হলে তাঁর লিখিত সম্মতি লাগবে; না থাকলে করি না। পেছনের কভারে কারও প্রশংসা-বাক্য বা “এত কপি বিক্রি” ধরনের দাবি বসাই কেবল তখন, যখন সেটা সত্যি আর আপনি উৎস দেখাতে পারেন। বানানো রিভিউ বা কোনো পরিচিত মানুষের নামে না-বলা কথা কভারে যায় না — তাতে বইটারই বিশ্বাস নষ্ট হয়।
বাংলা লেখা ভাঙা বা ভুল আসবে না তো?
এটাই বাংলা কভারের সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা, তাই নিয়মটা সোজা: AI টুলে কভারের ছবি বানাই, কিন্তু শিরোনাম আর লেখকের নাম ছবির ভেতরে AI-কে লিখতে দিই না। লেখাগুলো আলাদা করে ঠিক বাংলা ফন্টে বসাই, যাতে যুক্তাক্ষর আর কার-চিহ্ন ঠিক থাকে। বানান নেওয়া হয় আপনার টাইপ করে দেওয়া লেখা থেকে, নিজে থেকে কিছু বদলাই না; ডেলিভারির আগে একজন মানুষ অক্ষর ধরে ধরে মিলিয়ে দেখে। কোনো শব্দের বানানে সন্দেহ থাকলে আপনাকে জিজ্ঞেস করে নিই।
ছাপার পর রং কি স্ক্রিনে যেমন দেখছি তেমনই আসবে?
হুবহু আসে না। স্ক্রিন আলো দিয়ে রং দেখায়, প্রেস কালি দিয়ে — তাই উজ্জ্বল নীল, সবুজ বা নিয়ন ধরনের রং ছাপায় কিছুটা ম্লান হয়। প্রিন্ট ফাইল দিই ছাপার উপযোগী রং-প্রোফাইলে, ৩০০ dpi-তে আর ব্লিডসহ, আর আপনার কভারের কোন রং ছাপায় বেশি বদলাতে পারে সেটা আগেই জানিয়ে দিই। তবু প্রেস আর কাগজ ভেদে ফল বদলায়, তাই বেশি কপি ছাপার আগে একটা প্রুফ কপি ছাপিয়ে দেখে নিন।
